রাঙামাটি সদরের সাথে ৬ উপজেলার লঞ্চ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন | সিএইচটি-ব্রেকিং নিউজ ডট কম রাঙামাটি সদরের সাথে ৬ উপজেলার লঞ্চ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন | সিএইচটি-ব্রেকিং নিউজ ডট কম );

বুধবার, ২৪ Jul ২০১৯, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
cht-breakingnews.com এ আপনাকে স্বাগতম। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার বেটা ভার্ষণ চলছে......
ব্রেকিং নিউজ :
খাগড়াছড়িতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৩জনের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি পার্বত্যমন্ত্রীর সাথে সন্তু লারমার বৈঠক বৌদ্ধ পূর্ণিমা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রাঙামাটির পুলিশ রাঙামাটির হাসপাতালগুলোতে শূন্যপদে দ্রুত লোক নিয়োগের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি রাঙামাটি শহরে সিএনজিতে ফেলে যাওয়া যাত্রীর ৫ লক্ষ টাকার চেক ফিরিয়ে দিলেন অটোরিক্সা চালক ফনী মোকাবেলায় জেলা প্রশাসকের প্রস্তুতিমূলক সভা; দুর্যোগকালীন জরুরি ভিত্তিতে সেবা পেতে ফোন নম্বরগুলো হলো.. আমাকে মেরে যদি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর দাবি পূরণ হয়, তাহলে তাদের বুলেট আমি হাসি মুখে বরণ করবো- শহীদুজ্জামান মহসিন রোমান রাঙামাটিতে টিভি কাপ উন্মুক্ত নাইট সার্কেল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন নানিয়ারচর জোন কমান্ডারের বিদায় ও নবাগত জোন কমান্ডারের পরিচিতি উপলক্ষে মত বিনিময় সভা রক্তদান কর্মসুচীর উদ্বোধন মধ্যদিয়ে রাঙামাটিতে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালন
রাঙামাটি সদরের সাথে ৬ উপজেলার লঞ্চ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

কাপ্তাই লেক খনন করা না হলে বন্ধ হয়ে যাবে নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা

রাঙামাটি সদরের সাথে ৬ উপজেলার লঞ্চ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

সিএইচটি ব্রেকিং নিউজ ডট কম ডেস্ক: কেবল বাংলাদেশ নয় দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ কাপ্তাই হ্রদ ড্রেজিং ও খননের অভাবে নাব্যতা হারিয়ে পলি মাটি জমে ভরাটের পথে, একে ভরাটের হাত থেকে রক্ষা করতে না পারলে এখানকার মানুষের অর্থনীতি, যোগাযোগ, পর্যটন শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে।  দীর্ঘ ৫৯ বছরে লেকটি একবারও খনন ও ড্রেজিং না করায় লেকের বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে চর, অন্যদিকে জেলার ১০টি উপজেলার অন্তত ৬টি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা এই লেক দিয়ে। বর্তমানে লেকের পানি কমে যাওয়ায় ৬টি উপজেলার সাথে রাঙামাটি সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, গত এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে লঞ্চ চলাচল, ছোট বোট বা স্পীড বোটে যাত্রীরা চলাচল করলেও সেটিও এখন বন্ধ হওয়ার পথে।

অর্ধশত বছরেরও পূর্বে কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট বাংলাদেশের একমাত্র বৃহত্তম কৃত্রিম কাপ্তাই  হ্রদ প্রয়োজনীয় ড্রেজিং, খনন ও সংস্কারের অভাবে ক্রমান্বয়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ফলে কাপ্তাই  হ্রদটি এক সময় পার্বত্য মানুষের জন্য অভিশাপ হলেও এদেশের সোনালী দিগন্তের সূচনা করেছিল। ১৯৬০ সালে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করা হয়। মূলতঃ বিদ্যুৎ উৎপাদন, বন্যা নিয়ন্ত্রন, মৎস্য উৎপাদন, পর্যটন, জলপথ, যাতায়াত ও বনজ সম্পদ আহরণের জন্য কাপ্তাই বাঁধটি নির্মাণ করা হলেও গত ৫৯ বছরেও একবারের জন্য এর সংস্কার ড্রেজিং না হওয়ায় এটি এখন ভরাট হয়ে যাওয়ার পথে। পাহাড় ধ্বংস, জুমচাষ, অপরিকল্পিত ভাবে পাহাড়ে  চাষাবাদ, লেকের অনেকাংশে অবৈধ দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ, পাহাড় ধব্বস এবং বন্যায় পলি মাটি পড়ে লেকের তলদেশে পলি জমা ছাড়াও প্রতিদিন হাজার টন বর্জ্য কাপ্তাই লেকে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ফলে লেকের তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে লেকের পানি সর্বনিম্নস্তরে যাওয়ার কারণে কাপ্তাই লেকের বাঘাইছড়ি,লংগদু, কাট্টলী, কাপ্তাই, রাঙামাটি সদরসহ বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে চর জেলার দশটি উপজেলার মধ্যে বাঘাইছড়ি, লংগদু, জুরাছড়ি, বরকল, বিলাইছড়িসহ অন্তত ৬টি উপজেলার মানুষ এই লেক দিয়ে রাঙামাটি শহরসহ দেশের অন্যান্য স্থানের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে থাকে। কিন্তু লেকের পানি কমে যাওয়ায় এসব উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা  বিচ্ছিন্ন প্রায়,  লঞ্চ চলাচল গত এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে যাত্রী এবং মালামাল ছোট বোটের মাধ্যমে পরিবহন করা হচ্ছে। তারপরও শুভলং এর পরে গিয়ে বোটগুলো আটকে যায়।  ২/৩ ঘন্টার রাস্তা যেতে লাগে ৫/৬ ঘন্টা দুর্ভোগের সাথে বেড়েছে পরিবহন খরচও।

দীর্ঘদিন ধরে কাপ্তাই লেক ড্রেজিং খনন ও সংস্কারে কথা শোনা গেলেও আজো অবধি বাস্তবমুখী কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি।  তবে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন কিছু পয়েন্টে ড্রেজিং করার বিষয়ে সার্ভে করে গেলেও কেন কার্যক্রম আগাচ্ছে না, বুঝতে পারছি না, কাপ্তাই লেক ড্রেজিং এর বিষয়ে জেলা প্রশাসন থেকে  নৌ মন্ত্রনালয়ের সচিবকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

লংগদু থেকে রাঙামাটি এসেছিলেন ব্যবসায়ী কামাল, তার সাথে বোট ঘাটে দেখা, তিনি জানান আগে ৩ ঘন্টায় আমরা লংগদু মাইনী যেতাম, এখন লঞ্চ বন্ধ হয়ে গেছে, ছোট বোটে করি যাই কিন্তু সেটিও চরে আটকে যায়, অনেক সময় পানিতে নেমে বোট ধাক্কা দিয়ে চালাতে হয়। মালামাল নিতে খরচ বেশী পড়ে, কিন্তু মালের বোটও আটকে যায়। আমরা খুব কষ্টে আছি পুরো লেক দরকার নাই যে সব জায়গায় পলি জমেছে সে সব জায়গায় ড্রেজিং করার হোক।

বোট চালক আমীর হোসেন জানান, তিনি কাপ্তাই লেকে ২৫ বছর ধরে বোট চালান, কিন্তু কোন বছর এত পানি কমেনি লেকের তলদেশও মাটিও জমেনি। তিনি জানান, পাহাড় ধব্বস আর বৃষ্টির উজানের পানির সাথে পলি মাটি এসে লেক ভরাট হচ্ছে, সরকার যদি দ্রুত লেক খনন না করে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে পড়বে, আমরা না খেয়ে মরতে হবে।

একই ধরনের কথা জানান বেশীর ভাগ যাত্রী। যদি বৃষ্টি না হয় বা খনন কাজ করা না হয় তাহলে আগামী সপ্তাহে রাঙামাটি সদরের সাথে কমপক্ষে ৬টি উপজেলার নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।

লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মাঈনউদ্দিন সেলিম বলেছেন, শুধু আলোচনাই হয়, কিন্তু ড্রেজিং করার উদ্যেগ নেয়া হয়নি, তাই যে সব পয়েন্ট ড্রেজিং করা প্রয়োজন সেখানে ড্রেজিং করতে হবে। আমরা গত এক সপ্তাহ ধরে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি, এখন বোট চলাচলও বন্ধ হওয়ার পথে। তিনি বলেন, সরকার যদি দ্রুত খনন কাজ না করে তাহলে লঞ্চ, বোটে কাজ করে যারা জীবন জীবিকা নির্বাহ করে তাদের জীবিকা মুখ থুবরে পড়বে উপোষ এবং  থাকতে হবে।

এদিকে কাপ্তাই লেক ভরাট হওয়ায় কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নয়, এর প্রভাব মৎস্য খাতেও পড়েছে, কাপ্তাই মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক ও নৌ কমান্ডার আসাদুজ্জামান বলেছেন, কাপ্তাই লেকের সাথে ৫টি নদীর মোহনা যুক্ত রয়েছে, বৃষ্টি হলে উজানে নেমে আসা পানির সাথে লেকে পলি মাটিও পড়ে। কাপ্তাই লেক মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে, কিন্তু তলদেশ ভরাট হওয়ায় বড় বড় প্রজাতির মাছগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, লেকের পানি হ্রাস পাওয়ায় বর্তমানে যে সংকট দেখা দিয়েছে লেকে খননের জন্য এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এলাকায় মারাত্মক  সংকট সৃষ্টি করবে।

কাপ্তাই লেকে পানির স্তর কমে যাওয়া হ্রাস পেয়েছে বিদুৎ উৎপাদন, ২৩০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৭০ মেঘাওয়াট। জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পিওসি বেলায়েত  হোসেন জানান, লেকে আজ পর্যন্ত পানি ৮৩.২০ এমএসএল পানি থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে পানি আছে ৭৮.৫৯ এমএসএল। বৃষ্টি না হলে পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হযে যেতে পারে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন যাবৎ ড্রেজিং না হওয়ায় বর্ষাকালে বিভিন্ন জায়গা থেকে পানির সাথে পলি এসে কাপ্তাই লেক ভরাট হয়ে যাচ্ছে, একটি প্রতিষ্ঠান থেকে কোন কোন পয়েন্টে ড্রেজিং হবে এবং ড্রেজিং করা পলি মাটিগুলো কই ফেলবে, সে বিষয়ে গত বছর একটি টীম এসে ঘুরে গেছে, কিন্তু কেন খনন কাজ শুরু হচ্ছে না বুঝতে পারছি না, জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা আমরা নৌ মন্ত্রনালয়কে চিঠি দিয়েছি।

বিদ্যুৎ, মৎস্য, যোগাযোগ, পর্যটন ইত্যাদি নানা কারণে কাপ্তাই লেকের গুরুত্ব অপরিসীম। দ্রুত এর ড্রেজিং ও খননের ব্যবস্থা না নেয়া হলে হ্রদের বিপর্যয় ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। কঠিন হয়ে পড়বে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাও। আর এর বিরূপ প্রভাবে ৭ লক্ষাধিক অধিবাসী অধ্যুষিত জেলার ১৩ ভাষাভাষীর ১১টি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জীবন ও জীবিকা বিপর্যয়ে পড়বে ।
কৃতজ্ঞতা সিএইচটি টুডে

সংবাদটি শেয়ার করুন
খবরটি প্রিন্ট করুন খবরটি প্রিন্ট করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 cht-breakingnews.com
Developed BY Jyoti