থেগামুখ স্থলবন্দরের স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু | সিএইচটি-ব্রেকিং নিউজ ডট কম থেগামুখ স্থলবন্দরের স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু | সিএইচটি-ব্রেকিং নিউজ ডট কম );

বুধবার, ২৪ Jul ২০১৯, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
cht-breakingnews.com এ আপনাকে স্বাগতম। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার বেটা ভার্ষণ চলছে......
ব্রেকিং নিউজ :
খাগড়াছড়িতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৩জনের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি পার্বত্যমন্ত্রীর সাথে সন্তু লারমার বৈঠক বৌদ্ধ পূর্ণিমা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রাঙামাটির পুলিশ রাঙামাটির হাসপাতালগুলোতে শূন্যপদে দ্রুত লোক নিয়োগের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি রাঙামাটি শহরে সিএনজিতে ফেলে যাওয়া যাত্রীর ৫ লক্ষ টাকার চেক ফিরিয়ে দিলেন অটোরিক্সা চালক ফনী মোকাবেলায় জেলা প্রশাসকের প্রস্তুতিমূলক সভা; দুর্যোগকালীন জরুরি ভিত্তিতে সেবা পেতে ফোন নম্বরগুলো হলো.. আমাকে মেরে যদি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর দাবি পূরণ হয়, তাহলে তাদের বুলেট আমি হাসি মুখে বরণ করবো- শহীদুজ্জামান মহসিন রোমান রাঙামাটিতে টিভি কাপ উন্মুক্ত নাইট সার্কেল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন নানিয়ারচর জোন কমান্ডারের বিদায় ও নবাগত জোন কমান্ডারের পরিচিতি উপলক্ষে মত বিনিময় সভা রক্তদান কর্মসুচীর উদ্বোধন মধ্যদিয়ে রাঙামাটিতে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালন
থেগামুখ স্থলবন্দরের স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু

থেগামুখ স্থলবন্দরের স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু

সিএইচটি ব্রেকিং নিউজ ডট কম, রাঙামাটি। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে থেগামুখ স্থলবন্দরের স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। থেগামুখের অবস্থান হল বাংলাদেশের রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বরকল উপজেলার ভারতের মিজোরাম সীমান্তে। স্থলবন্দরটি যত দ্রুত সম্ভব চালু করতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নিয়েছে উভয় দেশ।

ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এসব কার্যকর পদক্ষেপ। এজন্য নির্মিত হচ্ছে চট্টগ্রাাম সমুদ্র বন্দর হতে বরকলের থেগামুখ পর্যন্ত ৩২৭ দমমিক ৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক। পাশাপাশি নৌপথ সংস্কার করা হবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে বলে জানিয়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা এলজিইডি।

এলজিইডি জানায়, ঠেগামুখ স্থলবন্দরের সঙ্গে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে সড়কটি নির্মিত হবে পৃথক দুটি অংশে। এর মধ্যে একটি সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর হতে রাঙামাটির রাজস্থলী-বিলাইছড়ি-জুরাছড়ি হয়ে বরকলের থেগামুখ পর্যন্ত- যার দূরত্ব ১৮৪ দশমিক ৯৭ কিলোমিটার। অন্য অংশে রাঙামাটি হয়ে নির্মাণ করা হবে বহুমাত্রিক আঞ্চলিক পথ- যার দূরত্ব ১৪২ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার।

সূত্র জানায়, সড়ক নির্মাণে ইতোমধ্যে জরিপ সম্পন্ন করেছে বিশ্বব্যাংক ও এলজিইডি। সড়কটি মূলত ঠেগামুখ স্থলবন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের সংযোগ সড়ক হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের পাশাপাশি আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রেও সড়কটি অসামান্য অবদান রাখবে বলে মত ব্যক্ত করে এলজিইডি। তারা জানান, সড়কটি নির্মাণ শেষ হলে দেশের অর্থনীতি উন্নয়নে আমুল পরিবর্তনসহ বদলে দেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান। এই রুট নির্মাণের ফলে প্রতি বছর গড়ে জিডিপি বাড়বে ৬ ভাগ।

রাঙামাটির বরকল উপজেলার সীমান্তবর্তী থেগামুখ এলাকায় স্থল বন্দর চালু হলে প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত-বাংলাদেশ উভয়ই লাভবান হবে। এক দেশের পন্য অন্যদেশে বৈধ উপায়ে সহজেই আমদানী এবং রফতানী করা যাবে এবং এই পশ্চাৎপদ এলাকার উন্নয়নের ছোঁয়াসহ স্থানীয় অধিবাসীদের জীবন যাত্রার মান পরিবর্তন ঘটবে।

চট্টগ্রামের রাউজানের সংসদ সদস্য ও রেল পথ মন্ত্র¿ণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, ঠেগামুখ স্থলবন্দরটি চালু করা গেলে ভারত বাংলাদেশ উভয়ে লাভবান হবে। উভয় দেশের মানুষ বাণিজ্যিক সুবিধায় আসবে। দ্রুত পাল্টে যাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অবস্থার। অর্থনৈতিকভাবে অধিক সুবিধা অর্জন হবে এ এলাকার মানুষের। তাই স্থলবন্দরটি দ্রুত চালু করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এ জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় যা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, সড়কটি নির্মাণের জন্য জরিপ শেষে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এটির নির্মাণ শেষ হলে পাহাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বৈপ্লিক পরিবর্তনের পাশাপাশি সেখানকার আর্থ-সামাজিক অবস্থারও আসবে আমুল পরিবর্তন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাঙামাটি শহর থেকে নৌপথের প্রায় ১শ কিলোমিটার দুরত্বে অবস্থিত বরকল উপজেলার ভূষনছড়া ইউনিয়নের থেগামূখ। এ থেগামুখের ওপারে রয়েছে ভারতের মিজোরাম রাজ্যের দেমাগ্রি এলাকা। দুদেশের একমাত্র সীমানা হচ্ছে ভারতের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপত্তি নদী কর্ণফুলী। এ নদীর ওপর দিয়ে দুদেশের লোকজন নিজ নিজ দেশের পতাকার উড়িয়ে চলাচলসহ দুদেশের জেলেরা একই নদীতে মাছ শিকার করে থাকেন। আবার সীমান্তের উভয় পাড়ের বসবাসকারী জনগোষ্ঠী হচ্ছেন চাকমা সম্প্রদায়ের। তাদের মধ্যে ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি মিল রয়েছে। তাই তাদের মধ্যে প্রায়শঃই বিয়ে দেয়ানেয়াসহ আত্মীয়তার বন্ধন তৈরি হওয়ার কারণে নেই কোন সংঘাত। এমনকি দেশের অন্য স্থানে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী প্রতি মুহুর্তে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার মধ্যে থাকলেও পার্বত্য সীমান্তবর্তী উভয় পাড়ের মানুষের হৃদয়ের বন্ধনের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে বিডিআর-বিএসএফ উভয়েরই। তাই তারা সীমান্ত পাহারায় কখনো কখনো যান্ত্রিকতার চেয়ে হৃদয়বৃত্তিকেই প্রাধান্য দেন।

আবার বিডিআর বিএসএফএর মধ্যে সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ রাখতে প্রায়ই আয়োজন করা হয় প্রীতি ভলিবল খেলা ও পতাকা বৈঠক। এ থেগামুখ এলাকায় একটি বাজার রয়েছে। এই বাজারকে কেন্দ্র করে দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস রয়েছে। কিন্ত এসব পরিবারের বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র প্রকট। খাবার পানি হিসেবে কুয়ার পানি পান করতে হচ্ছে তাদের। তাছাড়া সেখানকার অধিবাসীদের জন্য নেই টেলিফোন নেটওয়ার্ক ও পর্যাপ্ত নৌযানসহ যোগাযোগের বিকল্প কোন মাধ্যম। অপরদিকে ভারতের ডেমাগ্রি এলাকার দিকে তাকালে দেখা যায় সেখানে বিদ্যূৎ, রাস্তাঘাট ও টেলিফোন নেটওয়ার্কসহ নাগরিক সকল সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
খবরটি প্রিন্ট করুন খবরটি প্রিন্ট করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 cht-breakingnews.com
Developed BY Jyoti