থামানো যাচ্ছে না শহর মূখী জনস্রোত; বৈষম্য নয়, এগিয়ে যেতে চায় সবাই : হিমেল চাকমা | সিএইচটি-ব্রেকিং নিউজ ডট কম থামানো যাচ্ছে না শহর মূখী জনস্রোত; বৈষম্য নয়, এগিয়ে যেতে চায় সবাই : হিমেল চাকমা | সিএইচটি-ব্রেকিং নিউজ ডট কম );

শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন

নোটিশ :
cht-breakingnews.com এ আপনাকে স্বাগতম। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার বেটা ভার্ষণ চলছে......
ব্রেকিং নিউজ :
খাগড়াছড়িতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৩জনের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি পার্বত্যমন্ত্রীর সাথে সন্তু লারমার বৈঠক বৌদ্ধ পূর্ণিমা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রাঙামাটির পুলিশ রাঙামাটির হাসপাতালগুলোতে শূন্যপদে দ্রুত লোক নিয়োগের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি রাঙামাটি শহরে সিএনজিতে ফেলে যাওয়া যাত্রীর ৫ লক্ষ টাকার চেক ফিরিয়ে দিলেন অটোরিক্সা চালক ফনী মোকাবেলায় জেলা প্রশাসকের প্রস্তুতিমূলক সভা; দুর্যোগকালীন জরুরি ভিত্তিতে সেবা পেতে ফোন নম্বরগুলো হলো.. আমাকে মেরে যদি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর দাবি পূরণ হয়, তাহলে তাদের বুলেট আমি হাসি মুখে বরণ করবো- শহীদুজ্জামান মহসিন রোমান রাঙামাটিতে টিভি কাপ উন্মুক্ত নাইট সার্কেল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন নানিয়ারচর জোন কমান্ডারের বিদায় ও নবাগত জোন কমান্ডারের পরিচিতি উপলক্ষে মত বিনিময় সভা রক্তদান কর্মসুচীর উদ্বোধন মধ্যদিয়ে রাঙামাটিতে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালন
থামানো যাচ্ছে না শহর মূখী জনস্রোত; বৈষম্য নয়, এগিয়ে যেতে চায় সবাই : হিমেল চাকমা

থামানো যাচ্ছে না শহর মূখী জনস্রোত; বৈষম্য নয়, এগিয়ে যেতে চায় সবাই : হিমেল চাকমা

প্রতিদিন রাঙামাটি শহরে মানুষ বাড়ছে। এত মানুষের ধারণ ক্ষমতা নেই শহরের, বেড়েই চলছে দ্রব্য মূল্যর দাম। যে দাম নিয়ন্ত্রণেরও পদ্ধতি নেই। সংকট হচ্ছে বাসস্থানের। বাড়ছে ঘর ভাড়া। টাকা দিয়েও মিলছে না ঘর। শহরে থাকার প্রতিযোগীতা যেন চলছেই। কিন্তু কেন এই প্রতিযোগীতা? ভাবতে হবে। খুঁজতে হবে সমাধান।

আমাকে দেখুন। পড়াশুনার কারণে আমি গ্রাম ছাড়ি। প্রথমে পা রাখি খাগড়াছড়ি শহরে। পরে রাঙামাটি। তখন শহরে ৫০০ টাকা দিয়ে ঘর ভাড়া পাওয়া যেত। যখন আসি তখন জায়গা নেওয়ার কথা মাথায় ছিল না আমার। পড়াশুনা করে চাকুরী নেব এই চিন্তা ছিল বেশী। ২০০৪ সালের কথা বলছি। তখন শহরে মানুষ কম। শহরের ভিতরে বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গল ছিল।

আমার পড়াশুনা চলে। এর মাঝে জন¯্রােতও চলে আসে শহরে। আমার পড়াশুনা শেষ। শহরও দখলও প্রায় শেষ। মানুষ বাড়ার সাথে সাথে পাহাড়ের বুক ছিড়ে পাকা ভবন নির্মাণ হল। ছোট্ট ঘরের দাম ৫০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা হয়ে যায়। অন্যরা এগিয়ে যায়, আমি পিছিয়ে পড়ি।
এখন নিজেকে দেখি। আর শহরে অগণিত মানুষ দেখি। পার্থক্য খুঁজি। ব্যবধান হচ্ছে, আমার দুরদর্শীতা চিন্তার অভাব ছিল। ওদের ছিল না।
এখন ভাবি ছাত্র জীবনে টিউশনী করে যে আয় করেছিলাম সে টাকা আমার সাংবাদিকতার পেছনে ব্যয় না করে যদি ১০ শতকও জমি কিনে রাখতাম এখন আমি প্রায় কোটি টাকার মালিক হয়ে যেতাম। হতে পারনি।

এখন মানুষ বলবে আমার সফলতা বা ব্যর্থতা। তবে বলব ব্যর্থ হয়েছি আমি। ব্যর্থতার কারণেই বলছি শহরে টিকে থাকার সংগ্রাম করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
প্রতিদিন হাজারো মানুষ শহরের দিকে ছুটে আসছে। এ শহরে টিকে থাকা আমার জন্য এটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ শুধু আমার নয় এ চ্যালেঞ্জ পাহাড়ে বসবাস করা পাহাড়ি বাঙালী সবার। আয়ের তুলনায় বাড়ছে ব্যয়। দেশ, বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে আমরা পিছিয়ে আছি।

এবার গ্রামে ফিরে গিয়ে ব্যবধান খুঁিজ। দেখি, ওদের গ্রামে ঘরগুলো আছে কিন্তু থাকার মানুষ নেই। আমার গ্রামে ঘর মানুষ সবই আছে শুধু আমি নেই। আবার নিজেকে দেখি। এখন গ্রামে গিয়ে থাকার কথা ভাবতে পারি না। এ ভাবনা এখন শুধু আমার নয় এ ভাবনা দুর্গম এলাকার মানুষের।
বাধ্য হয়ে সহজ কথা মানুষও শহরমূখী হচ্ছে অনবরত। এসব মানুষের ভারে বিপর্যস্ত পাহাড়ের শহর। বাড়ছে জনসংখ্যার ঘনত্ব।
শহরে জনসংখ্যা বাড়ার কারণ খুঁজলে দেখা যায়, গ্রামের মানুষ বঞ্চিত, নিপীড়িত, নির্যাতিত। তারা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার, নিরাপদ পানির মত মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
কারণ গ্রামের শিক্ষক শহরে থাকে। গ্রামের ডাক্তার শহরে থাকে। বড় ব্যবসায়ী শহরে থাকে। রাজা শহরে থাকে। ডিসি শহরে থাকে। চেয়ারম্যানরা শহরে থাকে। ফলে শিক্ষা নেই। চিকিৎসা নেই। অর্থ নেই। সুবিধা নেই। বিচার নেই। উন্নয়ন নেই। শহরমূখী উন্নয়ন। দুর্গম থেকেই যাচ্ছে পাহাড়।
তাই শহরে শিক্ষকের কাছে ছাত্ররা আসে। রোগীরা ডাক্তারের কাছে আসে। বিক্রেতারা ব্যবসায়ীর কাছে আসে। প্রজারা রাজার কাছে আসে। ভোটাররা চেয়ারম্যানের কাছে আসে।
আরো সহজ করে বললে গ্রামের বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা থাকে না। গ্রামের হাসপাতালে ডাক্তার থাকে না। চেয়ারম্যান তার ঘরে থাকে না।

এখন করনীয় কি? শহরে মানুষের ভারসাম্য কমাতে হবে। কমাতে হলে কি অবৈধ ঘর ভেঙ্গে দিব? নাকি বহুতল ভবন নির্মাণ বন্ধ করব?
রোগ মাথায় হয়েছে বলে কি মাথা কেটে ফেলে দিব? কিন্তু সে কথা ভাবে আমাদের কর্তা ব্যাক্তিরা। আমার আপনার কথা শুনে কে? তাই তো তারা হ্রদের পাড়ে অবৈধ বসতি উচ্ছেদের কথা ভাবেন। মানব বর্জ্য গুড়িয়ে দেওয়ার কথা ভাবেন তারা। শহর পরিচ্ছন্ন অভিযানের কথা ভাবেন তারা। অবৈধভাবে পার্কিং করা গাড়ি বুলডোজার দিয়ে পিষ্ট করে দেওয়ার কথা ভাবেন। এই ভাবনার মাঝে আমার কথা ভাবার সময় নেই বড় সাহেবদের।
মূর্খ মানুষ আমি। জঙ্গলে থাকি আমি। এরপর আবার ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী। ক্ষুদ্র মানুষের ক্ষুদ্র চিন্তা বৃহৎ জনগোষ্ঠীর চিন্তা ক্ষুদ্ররা পারেন না। পারারও কথা না।
ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী-আদিবাসী-উপজাতি এসব শব্দ নিয়ে আমাদের দেশের কর্তা ব্যাক্তিরা যেভাবে লাখ লাখ টাকা খরচ করে গভীর গবেষণা। গভীর বিশ্লেষণ করেন। আর এভাবে যদি সত্যিকারের পাহাড়ের চিন্তা ভাবনা করতেন তাহলে আজ গ্রামের মানুষ শহরে শিক্ষা, চিকিৎসা, উন্নয়ন, সুবিধার পাবার জন্য শহরে ভিড় করত না।
শহরে জনসংখ্যার ভিড় কমাতে হলে সরকারের উন্নয়ন গ্রামে পৌছে দিতে হবে। এই উন্নয়ন কাগজে কলমে হলে হবে না। সত্যিকারের উন্নয়ন করতে হবে। পাহাড়ে সন্ত্রাস চাঁদাবাজের দোহায় দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা পকেটে ভরিয়ে দেশের বাইরে বা অবসরে চলে গেলে হবে না। একজন দেশপ্রেম মানুষ তা করে না। সরকার যা দেয় তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

শহর কেন্দ্রীক উন্নয়নে সীমাবদ্ধ না থেকে এ উন্নয়ন ছড়িয়ে দিতে হবে গ্রামগঞ্জে। গ্রামের আধুনিক বিদ্যুৎ-সংযোগ। রাস্তাঘাট-যানবাহন। হাসপাতাল-যন্ত্রপাতি-অবকাঠামো-জনবল-চিকিৎসক। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-আবাসন-জনবল-শিক্ষক। মডেল থানা-যানবাহন-জনবল এগুলো নিশ্চিত করা হলে মানুষ শহরে ভিড় করবে না।
কাপ্তাই হ্রদ দখল করবে না। পানি দুষণ করবে না। সবুজ পাহাড় ন্যাড়া করবে না। যানজট বাড়বে না। সেজন্য জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করতে হবে।
তখনই বসবাস যোগ্য শহর হবে। তখন অবৈধ বসতি গুড়িয়ে দিতে হবে না। মানুষ এমনিতে শহরে ছেড়ে গ্রামের চলে যাবে। তখনই সুন্দর হবে সারা পার্বত্য চট্টগ্রাম।

হিমেল চাকমা, গণমাধ্যম কর্মী

সংবাদটি শেয়ার করুন
খবরটি প্রিন্ট করুন খবরটি প্রিন্ট করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 cht-breakingnews.com
Developed BY Jyoti